নিজস্ব প্রতিবেদক,যাত্রাবাড়ী/ঢাকা:
অস্ট্রেলিয়া গিয়ে ভাগ্য বদলানোর স্বপ্ন এখন এক দুঃস্বপ্নের নাম। ১৮ লাখ টাকা খুইয়ে নিঃস্ব মাদারীপুরের জামাল সরদার। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীকেন্দ্রিক একটি শক্তিশালী ও ভয়ংকর দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে একদিকে যেমন খুইয়েছেন জীবনের সব সঞ্চয়, অন্যদিকে বিদেশের মাটিতে সহ্য করেছেন অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। এই পুরো জালিয়াতির নেপথ্যে মূল হোতা হিসেবে উঠে এসেছে মহুরি হাবিবুর রহমানের নাম, যার হাতেই লেনদেন হয়েছে প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকার সমপরিমাণ অঙ্ক।
ভুক্তভোগী জামাল সরদারের অভিযোগ থেকে জানা যায়, চক্রটি প্রথমে তাকে আকর্ষণীয় বেতনে অস্ট্রেলিয়ার ভিসার প্রলোভন দেখায়। বিশ্বস্ততা অর্জনে ব্যবহার করা হয় জাল কাগজপত্র, ব্যাংক চেক ও স্ট্যাম্প। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বদলে তাকে কৌশলে পাঠিয়ে দেওয়া হয় নেপালে। সেখানে কোনো কাজ তো মেলেইনি, বরং তাকে একটি মেসে বন্দি করে চালানো হয় মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন। অনাহারে-অর্ধাহারে ধুঁকতে থাকা জামাল একপর্যায়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। শেষ পর্যন্ত পরিবারের পাঠানো অতিরিক্ত অর্থে কোনোমতে প্রাণ হাতে নিয়ে দেশে ফেরেন তিনি।
দেশে ফেরার পর টাকা ফেরত চাইলে শুরু হয় নতুন নাটক। অভিযুক্ত মহুরি হাবিবুর রহমান ব্যাংক চেক ও স্ট্যাম্প দিয়ে সময়ক্ষেপণ করলেও এখন পর্যন্ত একটি টাকাও ফেরত দেয়নি। উল্টো প্রভাবশালী এই চক্রটি নানাভাবে ভয়ভীতি ও আইনি ফাঁকফোকর ব্যবহার করে পার পাওয়ার চেষ্টা করছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে জামাল সরদার বলেন, “আমি ভেবেছিলাম বিদেশ গিয়ে পরিবারের অভাব দূর করবো। কিন্তু মহুরি হাবিবুর রহমান আমার সব স্বপ্ন চুরমার করে দিয়েছে। নেপালে আমাকে পশুর মতো পেটানো হয়েছে। ১৮ লাখ টাকা হারিয়ে আমি এখন পথে বসেছি। আমি বর্তমান সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন জানাই—এই রক্তচোষা দালাল হাবিবুর রহমানকে যেন দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়।”
স্থানীয়দের দাবি, যাত্রাবাড়ী এলাকাকে নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করে এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করছে। নেপাল বা অন্যান্য মধ্যবর্তী দেশে পাঠিয়ে নির্যাতনের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায়ের মতো জঘন্য অপরাধও এদের নিত্যনৈমিত্তিক কাজ।
এই ভয়ংকর প্রতারক চক্রের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে এবং জামাল সরদারের আত্মসাৎকৃত টাকা উদ্ধার করতে সেনাবাহিনী, র্যাব ও সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
ভুক্তভোগীদের দাবি, শুধু জরিমানা নয়, এই চক্রের হোতা মহুরি হাবিবুর রহমানসহ সকল সহযোগীকে অনতিবিলম্বে কারাগারে পাঠাতে হবে।
Leave a Reply